WhatsApp Image 2022-08-13 at 12.38.15 PM

ব্যাংকে আপনি টাকা জমিয়ে রাখছেন? টাকা আপনার অজান্তেই অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে।

রায়হানুর রহমান রিমন।
ইস্তানবুল, তুরস্ক।

২০১৬ সালে যখন বাংলাদেশ ছেড়েছিলাম, ৭৮ টাকা করে প্রতি ইউ এস ডলার কিনেছিলাম। আজকে ২০২২ এ এখান থেকে বাংলাদেশে ১০০০ ডলার পাঠালে ১ লক্ষ ১৫/২০ হাজার টাকা হয়ে যাচ্ছে। অনলাইনে যে ১ USD সমান ৯৫ দেখাচ্ছে সেটার কার্যকারিতা কেবল অনলাইনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বাস্তবে এখন যদি বাংলাদেশ ছাড়ার জন্য আপনি ডলার কিনতে যান, আমার কেনা সেই ৭৮ টাকার ১ ডলার আপনার এখন ১২০ দিয়ে কিনতে হবে।

হিসাব মিলাইতে পারেন নাই।
ধরেণ আপনার ব্যাংকে ১ লক্ষ টাকা আছে। এটার এখন মূল্য ৮০০ ডলারের একটু বেশি। যেটা ২০১৬ সালে ছিলো প্রায় ১৩০০ ডলারের কাছাকাছি। মূল্য আপনি তখনই বোঝতে পারবেন যখন আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তুলনা করবেন, কিংবা বিদেশে ভ্রমণ করবেন। এক কথায় বিদেশি টাকার বিপরীতে মান হারাচ্ছে আপনার ব্যাংকে রাখা জমানো টাকা পয়সা।

এই যে জিনিস পত্রের দাম দিন দিন বাড়ছে এর অন্যতম কারণ এই মুদ্রাস্ফিতী। আমদানী মুখি সকল পণ্যের দাম এখন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আমদানীকারকেরা এই এক লক্ষ টাকা দিয়ে এখন মাত্র আটশত ডলারের পণ্য কিনতে পারছে। ১৩০০ ডলারে যেই পরিমান পণ্য আসতো ৮০০ ডলারে নিশ্চয়ই তার চেয়ে অনেক কম পণ্য আসতেছে। সেই কম পণ্যটাই আপনার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই এসব কিছুই বোঝবে না কারণ বিদেশের সাথে তাদের সংযোগ কম, কিংবা এভাবে বোঝানোর কেউ নেই। আরেকদল মনে করছেন এই ১২০ আবার এক সময় ৮০/৯০ এর কোঠায় ফেরত আসবে। আমরা ভবিষ্যত আগাম বলে দিতে অক্ষম। কিন্তু ১২০ যে ১৪০/১৫০ এ অচিরেই চলে যাবে না তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

মূদ্রাস্ফিতী! সরকারকে গালি দিয়ে কোনো লাভ নাই। এটা এরদোয়ানও ঠেকাতে ব্যার্থ। আমাদের এখানে (তুরস্কে) যদি বাংলাদেশের সাথে তুলনা করি তাহলে ১৩০০ ডলার কমে গিয়ে ৮০০ না ৩০০ ডলার হয়ে গেছে বিগত কয়েক বছরের ব্যাবধানে। কিন্তু আমরা তা নিয়ে আর চিন্তিত নই। আমাদের এখানে অবাধে বিদেশি মুদ্রা বেঁচা কেনা হয়। এমনকি ব্যাংকে আমরা চাইলে অন্যান্য কারেন্সি সরাসরি জমা এবং বের করতে পারি।

   

ছবিতে দেখেন একই ব্যাংকে আমার ইউ এস ডলার, তার্কিশ লিড়া এবং ইউরো একাউন্ট রয়েছে। এমনকি আমরা চাইলে স্বর্ণ কিনেও ব্যাংকে জমা রেখে স্বর্ণের দাম অনুযায়ী টাকা ধরে রাখতে পারি কিংবা সরাসরি টাকার মতো স্বর্ণ ডিপোজিট এবং উইথ্ড্রো করতে পারি।

 

কিন্তু এটাও কোনো সঠিক সমাধান নয়। সেদিন খবরে দেখলাম লেবাননে বাবার চিকিৎসায় নিজের জমানো টাকা ব্যাংক থেকে আনতে গেলে যথেস্ট টাকা নাই বিধায় ব্যাংক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এক পর্যায়ে পিস্তল ঠেকিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিম্মি করে নিজের জমানো অর্থ নিতে হয়। রাস্ট্র, ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে যে কোনো সময়। একই সাথে আপনার টাকাও গায়েব হয়ে যেতে পারে।

কিন্তু একটা জিনিস আপনার সহজে গায়েব হওয়ার মতো নয়। সেটা আপনার ফিজিকাল এসেট। টাকা না জমিয়ে বেশি বেশি জমি কিনে রাখতে পারেন। বাড়ি বা এপার্টম্যান্ট কিনতে পারেন। স্বর্ণ কিনে রেখে দিতে পারেন। সর্বাপরি টাকা না জমিয়ে কি করলে ভালো হয়
সেটাই করতে পারেন।

3 thoughts on “ব্যাংকে আপনি টাকা জমিয়ে রাখছেন? টাকা আপনার অজান্তেই অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে।

LEAVE A COMMENT

Recent Posts

Recent Comments

Archives

Categories

Meta

Categories

Top Activity

About Us

Adventure tours wordpress theme entrada comes with features and functionalities dediacted towards helping a tour operator set up a site easily that looks and feels the way they want.