IMG_9583

মেট্রো রেল, ইস্তাম্বুল।

 

কেউ যদি ধরেন উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত টিকেট কাটলো, কিন্তু উনি চলে গেলো মতিঝিল পর্যন্ত
উনার জন্য কিন্তু কোনো গেইট আর খুলবে না।
যখন গেইট খুলবে না তখন আমরা তাকে সম্মানের সহিত বসাব, যে আপনার এখান থেকে এখানে যাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু আপনিতো বেশি জায়গায় চলে আসছেন। এখন এটার জন্য আপনাকে এই অতিরিক্ত পেমেন্টাতো দিতে হবে। এখন আপনার কাছে অর্থ থাকে তো পেমেন্টা দিয়ে দিন না থাকলে বন্ধু বান্ধবকে টেলিফোন করেন, বিকাশে, যে কোনো জিনিস দিয়ে পেমেন্ট দেওয়ার সূযোগ থাকবে। পেমেন্ট দেয়ার পরে ওনার কাছে যে টিকিটটি থাকবে সেটা থেকে অটো চার্জ হয়ে যাবে। ওনি আবার টাচ করে চলে যেতে পারবেন। বিস্তারিত-

আমরা তুর্কিয়েএ মেট্রোতে চড়ি। কার্ড পান্চ করি, একবারে টাকা কেটে নেওয়া হয় সম্পূর্ণ যাতায়েতের। এখন আমি যদি সম্পুর্ণ না যেয়ে মাঝপথে কোনো স্টেশনে নেমে যাই তাহলে স্টেশন থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই মেশিন থাকে যেখান পান্চ করলেই বাকি টাকা ফেরত চলে আসে কার্ডে। প্রত্যেক স্টেশনেই এরকম মেশিন রয়েছে।

 

এই সহজ ব্যাপারটা ওনারা, সম্মানের সহিত বসিয়ে, বিকাশ- ফিকাশ পর্যন্ত নিয়ে যাবেন। হা হা হা।

আসলে আমাদের দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্হানের অভাবতো। অন্তত প্রত্যেকটি স্টেশনে একজন করে কপালে এই চাকুরীটা জোটবে যে কিনা সম্মানের সহিত যারা বেশি গমন করবে তাদের আপ্প্যায়ন করবে।

এখানে মোট্রোতে চরার সময় ফোন নিয়ে ব্যাস্ত, কিংবা গান শোনাতে ব্যাস্তাতায় মাঝে মধ্যে আমার ভুল করে পরের স্টেশনে যেয়ে নামতে হয়। আল্লাহ বাঁচাইছে এখানে কোনো বিকাশ-ফিকাশে আর আপ্প্যায়নে যাইতে হয়না। আমাদের স্টেশনের প্লাটফর্ম থাকে মাঝখানে। ভুলে পরের স্টেশনে চলে গেলে পাশের ট্রেনে আবার ব্যাক করতে পারি সহজেই, ফ্রিতে।

জাপানের আদলে তৈরি বাংলাদেশের মেট্রোরেল। জাপানেতো যাই নাই। ধুর ছাতা- তুর্কিয়ের টুরান্সপোর্টেশন ব্যাবস্থা কি জাপানের চেয়ে উন্নত, নাকি জাপানের আদলে তৈরি ব্রিটিস প্রিয়ড সিস্টেমেই চালোনোর কথা চিন্তা করছে মেট্রোরেল পরিচালকবৃন্দ! নাকি এটার চেয়ে ভালো ব্যাবস্থা এখনো বিশ্বে নাই বলেই ওনারা জানে।

গত বছর কয়েকজন কর্মকর্তা এসেছিলেন তুরস্কের একশহর থেকে অন্য শহরের সরকপথ, যাতায়েত ব্যাবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য। সরকপথ পর্যবেক্ষণ করতে এসে ওনারা ইস্তানবুল থেকে আংকারা ডমেস্টিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন।

এটা কোন রাজনৈতিক পোস্ট নয়। যারা বাংলাদেশের উপরমহলে কর্মরত তারা এরকম পর্যবেক্ষণে এসে ঠিকঠাকমতো না বুঝেই চলে যান কিংবা তাদের অনেকের ছেলে মেয়েরাও বিদেশে থাকেন বা পড়াশোনা করেন। তাদের নিশ্চয়ই অনেক টাকা-পয়সা, বিদেশে থাকলেও প্রাইভেট গাড়িতে চলাচল করেন, আমার মতো পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চলাচল করেন না।
সুতারং তাদের কাছে পুরো ব্যাপারটাই হয়তোবা অজানা।

 

বিদেশের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাক আমাদের প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশ।
রায়হানুর রহমান রিমন।
ইস্তানবুল, তুর্কিয়ে।

8 thoughts on “মেট্রো রেল, ইস্তাম্বুল।

LEAVE A COMMENT

Recent Posts

Recent Comments

Archives

Categories

Meta

Categories

Top Activity

About Us

Adventure tours wordpress theme entrada comes with features and functionalities dediacted towards helping a tour operator set up a site easily that looks and feels the way they want.