IMG_9633

এক দিনের বুর্সা, তুর্কিয়ে

রায়হানুর রহমান রিমন
Managing Director
RAYHAN TOUR &TRADE
ইস্তাম্বুল, তুর্কিয়ে।

ইস্তাম্বুল থেকে ১৫৭ কিলোমিটার দূরের শহড় বুর্সা। মরমর সাগরের এপারে ইস্তানবুল আর ঐপারে বুর্সা।
একপাশে বিশাল সবুজ পাহাড় মাঝখানে মানুষের বসতি আরেকপাশে মরমর সাগড় আপনার মন কেড়ে নিবে। এটি তুরস্কের চতুর্থ সর্বাধিক জনবহুল শহর।

ঐতিহাসিক ভাবে বুর্সা শহরের গুরুত্ব আত্যাধিক। ১৩৩৫ থেকে ১৩৬৩ সালের মধ্যে অটোমান রাজ্যের প্রথম রাজধানী ছিল এটি। প্রথম দিকের অটোমান সুলতানদের মাজারগুলি বুরসা শহরের মধ্যে অবস্থিত এবং নগরীর প্রধান ভবনগুলিতে অটোমান আমলে নির্মিত বিভিন্ন চিহ্ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


চিত্রে প্রদর্শিত স্থানগুলো ইসলামী সভ্যতার নানা আলোকময় ঘটনার সাথে জুড়ে আছে। জায়গা গুলো দেখলে আবার সেই হারানো খিলাফাতের কথা মনে পড়ে যায় যেখান থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম আমরা মুসলিমরা।

ইস্তানবুল থেকে মাত্র ১ ঘন্টা ৫০ মিনিটে মরমর সাগর পাড়ি দিয়ে সুন্দর- সাবলীল নৌভ্রমনের মাধ্যমে চলে আসতে পারেন বুরসায়। দেখার মতো অনেককিছুই রয়েছে এখানে। বুরসাতে রয়েছে ৬০০ বছরের পুরাতন জীবন্ত গাছ যা İnkaya Historical Plane Tree নামে পরিচিত।

বুর্সা মোদানিয়া পোর্ট থেকে প্রথমেই চলে আসতে পারেন এখানে। তারপর চলে আসতে পারেন ওরহানগাজীর মাজারে। পাশেই রয়েছে ওসমান গাজীর মাজারও।

স্হানটি পাহাড়ের চুড়াতে অবস্থিত। এখানে আসলে পুরো শহরের একাংশ দর্শন করতে পারবেন উপর থেকে।

সেখান থেকে ১০ মিনিট হাঁটার দুরত্বে অবস্থিত গ্রান্ড বাজার এবং গ্রান্ড মসজীদ। রাস্তার দুপাশে ঐতিহাসিক দেওয়াল এবং স্থাপনা দেখতে দেখতে উপরের দিক থেকে নিচের দিকে নামবেন, দশ মিনিট কখন যে চলে যাবে টেরই পাবেননা। আসলে পাহাড় থেকে নামাতো সমস্যা নয় পাহাড়ে ১০ মিনিট উঠতে গেলে হচ্ছে সমস্যা। আমার এ লেখা অনুসারে যদি আপনার বুর্সা ভ্রমণ সাজান তাহলে আপনি এরকম সমস্যা থেকে বেঁচে যাবেন।

পাশাপাশি অবস্থিত বুর্সা গ্রান্ড বাজার এবং গ্রান্ড মসজীদের শত শত বছরের পুরাতন ঐতিহাসিক কারুকাজ আপনাকে মুগ্ধ করবে। গ্রান্ড বাজারের ভিতরে একটা জায়গায় খুঁজে পাবেন koza Han নামের একটি জায়গা। একটি ছোট আইকনিক স্থাপনা যার চার পাশে গোল হয়ে তুর্কিশ এবং ভ্রমণকারীরা বসে চা পান করে, গল্পগুজবে মেতে থাকে।
KOZA HAN
গ্রান্ড মসজীদে চাইলে নামায আদায় করতে পারেন। মসজীদের ভেতরের কারুকার্য অনান্য যেকোনো মসজীদ থেকে সম্পুর্ণ আলাদা। মসজীদের ভেতরে চারপাশে নামাজের জায়গা কিন্তু ঠিক মাঝখানটিতে অসাধারণ নীল পানির এক অযুখানা। বাহিরের অযুখানাতে সাধারণত অযু শেষে মসজীদের ভেতরে হেঁটে প্রবেশ করার জন্য আবার মুজা, জুতা পরার ঝামেলা থাকে। কিন্তু এখানে এক অসাধারণ পরিবেশ। অযু শেষে টিস্যুপেপারও রাখা ছিলো।

ওসমানী শাসন আমলের সংরক্ষিত পবিত্র কাবার গিলাফ মসজীদের ভেতরে সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে।

আশেপাশের কোথাও দাম যাচাই করে খাওয়া দাওয়া সেরে নিতে পারেন। সেখান থেকে চলে আসতে পারেন বিশ্বের অন্যতম লম্বা ক্যাবল কার “উলুদা টেলিফিরিক” যা ৮.২ কিলোমিটার। ২/৩ ঘন্টা সময় নিয়ে এখানে আসাটা ভালো। শহরের মাঝখান থেকে আপনাকে উঠিয়ে নিয়ে আস্তে আস্তে গাছপালা পাহাড়- পর্বত পেরিয়ে আপনাকে নিয়ে আসবে জনবসতিহীন নিরব এক এলাকায়। আপনার আশেপাশের সকলেই এখানে ভ্রমণকারী। বিলাসী মানুষদের জন্য এখানেও রয়েছে স্বল্প পরিসরে আবাসীক হোটেল, সপিংমল, রেঁস্তোরা এবং থিম পার্ক। শীতকালের বরফে আচ্ছাদিত এ সৌন্দর্য পৃথিবীর যে কোনো সৌন্দর্যকে হার মানায়। বিমানে চড়লে উপর থেকে পৃথিবীটা ছোট এবং ঠিক যেমন নিজেকে আধ্যাত্মিক জগতে আছি বলে মনে হয় ঠিক তেমনি তারের মধ্যে ঝুলন্ত এ বাহণে চড়ে অসাধারণ অনুভুতি পাবেন। ৩০০ লিড়া বাংলাদেশী প্রায় ১৮০০ টাকা প্রথমে বেশি মনে হলেও ট্রিপ শেষে নগণ্য মনে হবে। ভালোকথা, শীতকালে এখানে আসলে পাহাড়ের উপর থেকে স্কেটিং করতে পারবেন।


বুর্সার ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় গুরুত্বের কথা এখানে যোগ করিনি। এমনিতেই ব্লগ অনেক বড়ো হয়ে গেছে।রপ্তানীকারকদের জন্য বুর্সা একাধারে একটি পোর্ট শহর এবং নানা ফলমুল ও পানীয়, বিভিন্ন জেলী/ আঁচার তৈরির শহর। তাইতো সারা বিশ্বের এসব আমদানিকারক ব্যাবসায়ীগণ ছুটে আসেন সবসময় এখানে।

শেষ করবো মজার এক ঘটনা দিয়ে। গুগল থেকে বের করে আমাদের অতিথীদ্বয় এক অপরুপ ঝর্ণা দেখিয়ে খুব আগ্রহ প্রকাশ করলো। টেক্সিতে করে লোকেশন ট্রেক করে যাচ্ছি। টানা ১ ঘন্টা যাওয়ার পরে আর গাড়ি যাওয়ার মতো রাস্তা নেই। নেমে ১৫ মিনিট হাঁটতেছি। এতোক্ষণ টেক্সিতে করে আসার সময় তেমন মানুষ চোখে পরেনি। দুপাশে ভয়ংকর জঙ্গল মাঝখানে বড়ো ছোট পাথরের রাস্তা। কিছুদূর যাওয়ার পর এবার শব্দ শুনতে পাচ্ছি ঝর্ণার শব্দ। একই সাথে মানুষজন দেখতে পাচ্ছি অনেক। এতোক্ষণ ভয়ে ছিলাম নিরব জঙ্গলের মাঝখানে আমরা একা হাঁটতেছিলাম। ভয়ংকর বণ্যপ্রাণি আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহে ছিলাম। হঠাৎ দেখি এখানে মানুষের বাজার।

আরে এতো মানুষ এখানে কি করে?
তুর্কিশ বুড়া- বুড়িও হাঁটতে পারে না ঠিকমতো এখানে চলে আসছে ক্যাম্পিং করতে।

আমরা শেষ পর্যন্ত ঝর্ণার কাছে পৌঁছাতেই পারিনি। শুধু দূর থেকে ছবি নিয়ে চলে এসেছি। কারণ এ পর্যন্ত যেতেই আমাদের যে ভয়ংকর রাস্তা পারি দিয়ে আসতে হয়েছে, পা পিছলে খাদে পরে গেলে মনে হয় তার্কিশ নিরাপত্তারক্ষী কর্মিরাও আমাদের খুঁজে পাবে না। চলে যেতাম ভয়ংকর সৌন্দর্যের এক অতল গহ্বরে। কিন্তু দুর থেকে দেখতে পেলাম দুঃসাহসিক ভ্রমণ আর প্রকৃতি প্রেমীরা ঘরবাড়ি ফেলে খাবার, রান্নাবারাসহ তাঁবু টানিয়ে এখানেই রাত কাটাচ্ছে।

ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যকেও পরার সূযোগ করে দিতে পারেন। আমরা ইতিমধ্যেই ১০ হাজার মানুষের পরিবারে রুপান্তরীত হয়েছি। https://www.facebook.com/groups/230885025016823

মাতৃভুমী থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দুরে অবস্থান করেও হাজার ব্যাস্ততার মধ্যেও আপনাদেরকে একই সাথে তথ্য এবং আনন্দ দিচ্ছি। নিজেকে উজার করে দিয়ে লিখছি/ তথ্য দিয়ে যাচ্ছি।

এখানে এসে কোথায়, কিভাবে, কোনটা আগে পরে ভ্রমণ করবে সিম্পল এসব তথ্যের জন্য পর্যটকেরা আমাদের অফিসে এসে আমাদেরকে পে- করে। সুতরাং আপনাদের কাছে একটি সুন্দর রিভিও https://g.page/r/CRFxqShXfjpyEB0/review
এখানে দাবি করতেই পারি।

[বানান ভুল ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন দয়া করে]

11 thoughts on “এক দিনের বুর্সা, তুর্কিয়ে
  • M.Hosen

    Dear Mr.Rimon.....Plz keep going & expecting new post regarding tourist place related with our islamic culture,thnk you

  • Saif Ahmed

    Before following the rayhan tour & trade i just known about turkiye as a country but now i gathered so many things about turkish culture in my knowledge. I am totally influenced and wish to go turkiye InshaAllah. Jazakallah Mr. Rayhan for your blogs,article and also travel information. Keep going...

  • Anonymous

    Did not know Bursa was so beautiful. Your pictures made me realize there is so much history and culture in the old capital! Your blog was fun and informative to read. May you have many more adventures!

  • Jobaida Shouri

    Did not know Bursa was so beautiful. Your pictures made me realize there is so much history and culture in the old capital! Your blog was fun and informative to read. May you have many more adventures!

  • Thanks for sharing. I read many of your blog posts, cool, your blog is very good.

  • Thank you for your sharing. I am worried that I lack creative ideas. It is your article that makes me full of hope. Thank you. But, I have a question, can you help me?

  • I don't think the title of your article matches the content lol. Just kidding, mainly because I had some doubts after reading the article.

  • MTUnPCfRW

  • Your article helped me a lot, is there any more related content? Thanks!

  • SEtqdmacIHARTpJ

  • Can you be more specific about the content of your article? After reading it, I still have some doubts. Hope you can help me.

LEAVE A COMMENT

Recent Posts

Recent Comments

Archives

Categories

Meta

Categories

Top Activity

About Us

Adventure tours wordpress theme entrada comes with features and functionalities dediacted towards helping a tour operator set up a site easily that looks and feels the way they want.