IMG_9633

এক দিনের বুর্সা, তুর্কিয়ে

রায়হানুর রহমান রিমন Managing Director RAYHAN TOUR &TRADE ইস্তাম্বুল, তুর্কিয়ে। ইস্তাম্বুল থেকে ১৫৭ কিলোমিটার দূরের শহড় বুর্সা। মরমর সাগরের এপারে ইস্তানবুল আর ঐপারে বুর্সা। একপাশে বিশাল সবুজ পাহাড় মাঝখানে মানুষের বসতি আরেকপাশে মরমর সাগড় আপনার মন কেড়ে নিবে। এটি তুরস্কের চতুর্থ সর্বাধিক জনবহুল শহর। ঐতিহাসিক ভাবে বুর্সা শহরের গুরুত্ব আত্যাধিক। ১৩৩৫ থেকে ১৩৬৩ সালের মধ্যে অটোমান রাজ্যের প্রথম রাজধানী ছিল এটি। প্রথম দিকের অটোমান সুলতানদের মাজারগুলি বুরসা শহরের মধ্যে অবস্থিত এবং নগরীর প্রধান ভবনগুলিতে অটোমান আমলে নির্মিত বিভিন্ন চিহ্ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চিত্রে প্রদর্শিত স্থানগুলো ইসলামী সভ্যতার নানা আলোকময় ঘটনার সাথে জুড়ে আছে। জায়গা গুলো দেখলে আবার সেই হারানো খিলাফাতের কথা মনে পড়ে যায় যেখান থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম আমরা মুসলিমরা। [video width="480" height="848" mp4="https://rayhantrade.com/wp-content/uploads/2022/09/WhatsApp-Video-2022-09-17-at-10.44.48-PM.mp4"][/video] ইস্তানবুল থেকে মাত্র ১ ঘন্টা ৫০ মিনিটে মরমর সাগর পাড়ি দিয়ে সুন্দর- সাবলীল নৌভ্রমনের মাধ্যমে চলে আসতে পারেন বুরসায়। দেখার মতো অনেককিছুই রয়েছে এখানে। বুরসাতে রয়েছে ৬০০ বছরের পুরাতন জীবন্ত গাছ যা İnkaya Historical Plane Tree নামে পরিচিত। বুর্সা মোদানিয়া পোর্ট থেকে প্রথমেই চলে আসতে পারেন এখানে। তারপর চলে আসতে পারেন ওরহানগাজীর মাজারে। পাশেই রয়েছে ওসমান গাজীর মাজারও। স্হানটি পাহাড়ের চুড়াতে অবস্থিত। এখানে আসলে পুরো শহরের একাংশ দর্শন করতে পারবেন উপর থেকে। সেখান থেকে ১০ মিনিট হাঁটার দুরত্বে অবস্থিত গ্রান্ড বাজার এবং গ্রান্ড মসজীদ। রাস্তার দুপাশে ঐতিহাসিক দেওয়াল এবং স্থাপনা দেখতে দেখতে উপরের দিক থেকে নিচের দিকে নামবেন, দশ মিনিট কখন যে চলে যাবে টেরই পাবেননা। আসলে পাহাড় থেকে নামাতো সমস্যা নয় পাহাড়ে ১০ মিনিট উঠতে গেলে হচ্ছে সমস্যা। আমার এ লেখা অনুসারে যদি আপনার বুর্সা ভ্রমণ সাজান তাহলে আপনি এরকম সমস্যা থেকে বেঁচে যাবেন। পাশাপাশি অবস্থিত বুর্সা গ্রান্ড বাজার এবং গ্রান্ড মসজীদের শত শত বছরের পুরাতন ঐতিহাসিক কারুকাজ আপনাকে মুগ্ধ করবে। গ্রান্ড বাজারের ভিতরে একটা জায়গায় খুঁজে পাবেন koza Han নামের একটি জায়গা। একটি ছোট আইকনিক স্থাপনা যার চার পাশে গোল হয়ে তুর্কিশ এবং ভ্রমণকারীরা বসে চা পান করে, গল্পগুজবে মেতে থাকে। KOZA HAN গ্রান্ড মসজীদে চাইলে নামায আদায় করতে পারেন। মসজীদের ভেতরের কারুকার্য অনান্য যেকোনো মসজীদ থেকে সম্পুর্ণ আলাদা। মসজীদের ভেতরে চারপাশে নামাজের জায়গা কিন্তু ঠিক মাঝখানটিতে অসাধারণ নীল পানির এক অযুখানা। বাহিরের অযুখানাতে সাধারণত অযু শেষে মসজীদের ভেতরে হেঁটে প্রবেশ করার জন্য আবার মুজা, জুতা পরার ঝামেলা থাকে। কিন্তু এখানে এক অসাধারণ পরিবেশ। অযু শেষে টিস্যুপেপারও রাখা ছিলো। ওসমানী শাসন আমলের সংরক্ষিত পবিত্র কাবার গিলাফ মসজীদের ভেতরে সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে। আশেপাশের কোথাও দাম যাচাই করে খাওয়া দাওয়া সেরে নিতে পারেন। সেখান থেকে চলে আসতে পারেন বিশ্বের অন্যতম লম্বা ক্যাবল কার “উলুদা টেলিফিরিক” যা ৮.২ কিলোমিটার। ২/৩ ঘন্টা সময় নিয়ে এখানে আসাটা ভালো। শহরের মাঝখান থেকে আপনাকে উঠিয়ে নিয়ে আস্তে আস্তে গাছপালা পাহাড়- পর্বত পেরিয়ে আপনাকে নিয়ে আসবে জনবসতিহীন নিরব এক এলাকায়। আপনার আশেপাশের সকলেই এখানে ভ্রমণকারী। বিলাসী মানুষদের জন্য এখানেও রয়েছে স্বল্প পরিসরে আবাসীক হোটেল, সপিংমল, রেঁস্তোরা এবং থিম পার্ক। শীতকালের বরফে আচ্ছাদিত এ সৌন্দর্য পৃথিবীর যে কোনো সৌন্দর্যকে হার মানায়। বিমানে চড়লে উপর থেকে পৃথিবীটা ছোট এবং ঠিক যেমন নিজেকে আধ্যাত্মিক জগতে আছি বলে মনে হয় ঠিক তেমনি তারের মধ্যে ঝুলন্ত এ বাহণে চড়ে অসাধারণ অনুভুতি পাবেন। ৩০০ লিড়া বাংলাদেশী প্রায় ১৮০০ টাকা প্রথমে বেশি মনে হলেও ট্রিপ শেষে নগণ্য মনে হবে। ভালোকথা, শীতকালে এখানে আসলে পাহাড়ের উপর থেকে স্কেটিং করতে পারবেন। বুর্সার ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় গুরুত্বের কথা এখানে যোগ করিনি। এমনিতেই ব্লগ অনেক বড়ো হয়ে গেছে।রপ্তানীকারকদের জন্য বুর্সা একাধারে একটি পোর্ট শহর এবং নানা ফলমুল ও পানীয়, বিভিন্ন জেলী/ আঁচার তৈরির শহর। তাইতো সারা বিশ্বের এসব আমদানিকারক ব্যাবসায়ীগণ ছুটে আসেন সবসময় এখানে। শেষ করবো মজার এক ঘটনা দিয়ে। গুগল থেকে বের করে আমাদের অতিথীদ্বয় এক অপরুপ ঝর্ণা দেখিয়ে খুব আগ্রহ প্রকাশ করলো। টেক্সিতে করে লোকেশন ট্রেক করে যাচ্ছি। টানা ১ ঘন্টা যাওয়ার পরে আর গাড়ি যাওয়ার মতো রাস্তা নেই। নেমে ১৫ মিনিট হাঁটতেছি। এতোক্ষণ টেক্সিতে করে আসার সময় তেমন মানুষ চোখে পরেনি। দুপাশে ভয়ংকর জঙ্গল মাঝখানে বড়ো ছোট পাথরের রাস্তা। কিছুদূর যাওয়ার পর এবার শব্দ শুনতে পাচ্ছি ঝর্ণার শব্দ। একই সাথে মানুষজন দেখতে পাচ্ছি অনেক। এতোক্ষণ ভয়ে ছিলাম নিরব জঙ্গলের মাঝখানে আমরা একা হাঁটতেছিলাম। ভয়ংকর বণ্যপ্রাণি আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহে ছিলাম। হঠাৎ দেখি এখানে মানুষের বাজার। আরে এতো মানুষ এখানে কি করে? তুর্কিশ বুড়া- বুড়িও হাঁটতে পারে না ঠিকমতো এখানে চলে আসছে ক্যাম্পিং করতে। আমরা শেষ পর্যন্ত ঝর্ণার কাছে পৌঁছাতেই পারিনি। শুধু দূর থেকে ছবি নিয়ে চলে এসেছি। কারণ এ পর্যন্ত যেতেই আমাদের যে ভয়ংকর রাস্তা পারি দিয়ে আসতে হয়েছে, পা পিছলে খাদে পরে গেলে মনে হয় তার্কিশ নিরাপত্তারক্ষী কর্মিরাও আমাদের খুঁজে পাবে না। চলে যেতাম ভয়ংকর সৌন্দর্যের এক অতল গহ্বরে। কিন্তু দুর থেকে দেখতে পেলাম দুঃসাহসিক ভ্রমণ আর প্রকৃতি প্রেমীরা ঘরবাড়ি ফেলে খাবার, রান্নাবারাসহ তাঁবু টানিয়ে এখানেই রাত কাটাচ্ছে। [video width="480" height="848" mp4="https://rayhantrade.com/wp-content/uploads/2022/09/WhatsApp-Video-2022-09-17-at-10.47.55-PM.mp4"][/video] ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যকেও পরার সূযোগ করে দিতে পারেন। আমরা ইতিমধ্যেই ১০ হাজার মানুষের পরিবারে রুপান্তরীত হয়েছি। https://www.facebook.com/groups/230885025016823 মাতৃভুমী থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দুরে অবস্থান করেও হাজার ব্যাস্ততার মধ্যেও আপনাদেরকে একই সাথে তথ্য এবং আনন্দ দিচ্ছি। নিজেকে উজার করে দিয়ে লিখছি/ তথ্য দিয়ে যাচ্ছি। এখানে এসে কোথায়, কিভাবে, কোনটা আগে পরে ভ্রমণ করবে সিম্পল এসব তথ্যের জন্য পর্যটকেরা আমাদের অফিসে এসে আমাদেরকে পে- করে। সুতরাং আপনাদের কাছে একটি সুন্দর রিভিও https://g.page/r/CRFxqShXfjpyEB0/review এখানে দাবি করতেই পারি। [বানান ভুল ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন দয়া করে]

IMG_9583

মেট্রো রেল, ইস্তাম্বুল।

  কেউ যদি ধরেন উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত টিকেট কাটলো, কিন্তু উনি চলে গেলো মতিঝিল পর্যন্ত উনার জন্য কিন্তু কোনো গেইট আর খুলবে না। যখন গেইট খুলবে না তখন আমরা তাকে সম্মানের সহিত বসাব, যে আপনার এখান থেকে এখানে যাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু আপনিতো বেশি জায়গায় চলে আসছেন। এখন এটার জন্য আপনাকে এই অতিরিক্ত পেমেন্টাতো দিতে হবে। এখন আপনার কাছে অর্থ থাকে তো পেমেন্টা দিয়ে দিন না থাকলে বন্ধু বান্ধবকে টেলিফোন করেন, বিকাশে, যে কোনো জিনিস দিয়ে পেমেন্ট দেওয়ার সূযোগ থাকবে। পেমেন্ট দেয়ার পরে ওনার কাছে যে টিকিটটি থাকবে সেটা থেকে অটো চার্জ হয়ে যাবে। ওনি আবার টাচ করে চলে যেতে পারবেন। বিস্তারিত- https://youtu.be/XpRFm2pQyyM আমরা তুর্কিয়েএ মেট্রোতে চড়ি। কার্ড পান্চ করি, একবারে টাকা কেটে নেওয়া হয় সম্পূর্ণ যাতায়েতের। এখন আমি যদি সম্পুর্ণ না যেয়ে মাঝপথে কোনো স্টেশনে নেমে যাই তাহলে স্টেশন থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই মেশিন থাকে যেখান পান্চ করলেই বাকি টাকা ফেরত চলে আসে কার্ডে। প্রত্যেক স্টেশনেই এরকম মেশিন রয়েছে।   এই সহজ ব্যাপারটা ওনারা, সম্মানের সহিত বসিয়ে, বিকাশ- ফিকাশ পর্যন্ত নিয়ে যাবেন। হা হা হা। আসলে আমাদের দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্হানের অভাবতো। অন্তত প্রত্যেকটি স্টেশনে একজন করে কপালে এই চাকুরীটা জোটবে যে কিনা সম্মানের সহিত যারা বেশি গমন করবে তাদের আপ্প্যায়ন করবে। এখানে মোট্রোতে চরার সময় ফোন নিয়ে ব্যাস্ত, কিংবা গান শোনাতে ব্যাস্তাতায় মাঝে মধ্যে আমার ভুল করে পরের স্টেশনে যেয়ে নামতে হয়। আল্লাহ বাঁচাইছে এখানে কোনো বিকাশ-ফিকাশে আর আপ্প্যায়নে যাইতে হয়না। আমাদের স্টেশনের প্লাটফর্ম থাকে মাঝখানে। ভুলে পরের স্টেশনে চলে গেলে পাশের ট্রেনে আবার ব্যাক করতে পারি সহজেই, ফ্রিতে। জাপানের আদলে তৈরি বাংলাদেশের মেট্রোরেল। জাপানেতো যাই নাই। ধুর ছাতা- তুর্কিয়ের টুরান্সপোর্টেশন ব্যাবস্থা কি জাপানের চেয়ে উন্নত, নাকি জাপানের আদলে তৈরি ব্রিটিস প্রিয়ড সিস্টেমেই চালোনোর কথা চিন্তা করছে মেট্রোরেল পরিচালকবৃন্দ! নাকি এটার চেয়ে ভালো ব্যাবস্থা এখনো বিশ্বে নাই বলেই ওনারা জানে। গত বছর কয়েকজন কর্মকর্তা এসেছিলেন তুরস্কের একশহর থেকে অন্য শহরের সরকপথ, যাতায়েত ব্যাবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য। সরকপথ পর্যবেক্ষণ করতে এসে ওনারা ইস্তানবুল থেকে আংকারা ডমেস্টিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। এটা কোন রাজনৈতিক পোস্ট নয়। যারা বাংলাদেশের উপরমহলে কর্মরত তারা এরকম পর্যবেক্ষণে এসে ঠিকঠাকমতো না বুঝেই চলে যান কিংবা তাদের অনেকের ছেলে মেয়েরাও বিদেশে থাকেন বা পড়াশোনা করেন। তাদের নিশ্চয়ই অনেক টাকা-পয়সা, বিদেশে থাকলেও প্রাইভেট গাড়িতে চলাচল করেন, আমার মতো পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চলাচল করেন না। সুতারং তাদের কাছে পুরো ব্যাপারটাই হয়তোবা অজানা।   বিদেশের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাক আমাদের প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশ। রায়হানুর রহমান রিমন। ইস্তানবুল, তুর্কিয়ে।

WhatsApp Image 2022-08-13 at 12.38.15 PM

ব্যাংকে আপনি টাকা জমিয়ে রাখছেন? টাকা আপনার অজান্তেই অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে।

রায়হানুর রহমান রিমন। ইস্তানবুল, তুরস্ক। ২০১৬ সালে যখন বাংলাদেশ ছেড়েছিলাম, ৭৮ টাকা করে প্রতি ইউ এস ডলার কিনেছিলাম। আজকে ২০২২ এ এখান থেকে বাংলাদেশে ১০০০ ডলার পাঠালে ১ লক্ষ ১৫/২০ হাজার টাকা হয়ে যাচ্ছে। অনলাইনে যে ১ USD সমান ৯৫ দেখাচ্ছে সেটার কার্যকারিতা কেবল অনলাইনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বাস্তবে এখন যদি বাংলাদেশ ছাড়ার জন্য আপনি ডলার কিনতে যান, আমার কেনা সেই ৭৮ টাকার ১ ডলার আপনার এখন ১২০ দিয়ে কিনতে হবে। হিসাব মিলাইতে পারেন নাই। ধরেণ আপনার ব্যাংকে ১ লক্ষ টাকা আছে। এটার এখন মূল্য ৮০০ ডলারের একটু বেশি। যেটা ২০১৬ সালে ছিলো প্রায় ১৩০০ ডলারের কাছাকাছি। মূল্য আপনি তখনই বোঝতে পারবেন যখন আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তুলনা করবেন, কিংবা বিদেশে ভ্রমণ করবেন। এক কথায় বিদেশি টাকার বিপরীতে মান হারাচ্ছে আপনার ব্যাংকে রাখা জমানো টাকা পয়সা। এই যে জিনিস পত্রের দাম দিন দিন বাড়ছে এর অন্যতম কারণ এই মুদ্রাস্ফিতী। আমদানী মুখি সকল পণ্যের দাম এখন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আমদানীকারকেরা এই এক লক্ষ টাকা দিয়ে এখন মাত্র আটশত ডলারের পণ্য কিনতে পারছে। ১৩০০ ডলারে যেই পরিমান পণ্য আসতো ৮০০ ডলারে নিশ্চয়ই তার চেয়ে অনেক কম পণ্য আসতেছে। সেই কম পণ্যটাই আপনার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই এসব কিছুই বোঝবে না কারণ বিদেশের সাথে তাদের সংযোগ কম, কিংবা এভাবে বোঝানোর কেউ নেই। আরেকদল মনে করছেন এই ১২০ আবার এক সময় ৮০/৯০ এর কোঠায় ফেরত আসবে। আমরা ভবিষ্যত আগাম বলে দিতে অক্ষম। কিন্তু ১২০ যে ১৪০/১৫০ এ অচিরেই চলে যাবে না তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। মূদ্রাস্ফিতী! সরকারকে গালি দিয়ে কোনো লাভ নাই। এটা এরদোয়ানও ঠেকাতে ব্যার্থ। আমাদের এখানে (তুরস্কে) যদি বাংলাদেশের সাথে তুলনা করি তাহলে ১৩০০ ডলার কমে গিয়ে ৮০০ না ৩০০ ডলার হয়ে গেছে বিগত কয়েক বছরের ব্যাবধানে। কিন্তু আমরা তা নিয়ে আর চিন্তিত নই। আমাদের এখানে অবাধে বিদেশি মুদ্রা বেঁচা কেনা হয়। এমনকি ব্যাংকে আমরা চাইলে অন্যান্য কারেন্সি সরাসরি জমা এবং বের করতে পারি।     ছবিতে দেখেন একই ব্যাংকে আমার ইউ এস ডলার, তার্কিশ লিড়া এবং ইউরো একাউন্ট রয়েছে। এমনকি আমরা চাইলে স্বর্ণ কিনেও ব্যাংকে জমা রেখে স্বর্ণের দাম অনুযায়ী টাকা ধরে রাখতে পারি কিংবা সরাসরি টাকার মতো স্বর্ণ ডিপোজিট এবং উইথ্ড্রো করতে পারি।   কিন্তু এটাও কোনো সঠিক সমাধান নয়। সেদিন খবরে দেখলাম লেবাননে বাবার চিকিৎসায় নিজের জমানো টাকা ব্যাংক থেকে আনতে গেলে যথেস্ট টাকা নাই বিধায় ব্যাংক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এক পর্যায়ে পিস্তল ঠেকিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিম্মি করে নিজের জমানো অর্থ নিতে হয়। রাস্ট্র, ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে যে কোনো সময়। একই সাথে আপনার টাকাও গায়েব হয়ে যেতে পারে। কিন্তু একটা জিনিস আপনার সহজে গায়েব হওয়ার মতো নয়। সেটা আপনার ফিজিকাল এসেট। টাকা না জমিয়ে বেশি বেশি জমি কিনে রাখতে পারেন। বাড়ি বা এপার্টম্যান্ট কিনতে পারেন। স্বর্ণ কিনে রেখে দিতে পারেন। সর্বাপরি টাকা না জমিয়ে কি করলে ভালো হয় সেটাই করতে পারেন।

বিশ্ব এবং অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান

বিশ্ব রাজনীতি বেশ উত্তপ্ত। এর মধ্যেই তুরস্ক তার অবস্থান ধরে রেখেছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের পররাষ্ট্রনীতি নিজেদের জাত চিনিয়ে যাচ্ছে। বিগত ৩/৪ দিনের খবর বিশ্লেষণ করলে প্রথমেই আসবে তুরস্কের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন শস্যবোঝাই জাহাজের বন্দর ছেড়ে যাওয়া। এ মুহুর্তে প্রেসিডন্ট এরদোয়ান যেভাবে ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনকে সাহায্য করছেন অন্যদিকে পুতিনের সাথে রাশিয়া গিয়ে বৈঠক করছেন, এরদোয়ান তুরস্কের পররাষ্ট্রনিতী কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ব সেরা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ কোন কিছুরই আগাম ঠাওর করতে পারছেন না। ইসলামিক সলিডারিটি গেমস, কনিয়া ২০২১ এবারের আয়োজক তুরস্ক। বিগত সব আয়োজনকে পেছনে ফেলে মুসলীম দেশগুলোর রাস্ট্র প্রধানদের, ক্রিয়াবিদদের একছাদের নিচে একত্র করতে পেরেছেন। জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং ৫৬ টি দেশের রাস্ট্রপ্রধান ও কুটনীতিকদের উপস্থিতিতে এবারের আয়োজন পশ্চিমাদের বেশ নাড়া দিতে পেরেছে। এখন থেকে ভূমধ্য সাগড় দাপিয়ে বেড়াবে সপ্তম প্রজন্মের তেল গেস অনুসন্ধানী জাহাজ “সুলতান আব্দুল হামিদ হান”। এর সংযোজন পশ্চিমাদের ভুমধ্য সাগরকে সংকুচিত করে দিয়েছে। পৃথিবীতে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জাহাজের সংখ্যা এখন সর্বমোট পাঁচটি। ইউরোপের অনেক অর্থনৈতিক উন্নত দেশ রয়েছে যাদের কোনো ড্রিল জাহাজই নেই। খনিজ অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের জন্য যারা অন্যদেশের উপর নির্ভরশীল। সেখানে তুরস্কের হাতে দানব আকৃতির ছয়টি ড্রিলিং জাহাজ। ইউক্রেন ইস্যু থেকে শিক্ষা নিয়ে খোদ পশ্চিমা দেশগুলোও বিকল্প বন্ধু রাস্ট্র খুঁজে বেড়াচ্ছে। ভলকান দেশগুলো সাম্প্রতি উদিয়মান শক্তি তুরস্কের সাথে আরও ঘনিস্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের চেস্টায় রয়েছে। সেই সুবাদে স্লোভেনিয়া প্রেসিডন্ট Borut Pahor এর আঙ্কারায় আগমন। এরদোয়ানও সেই সুযোগে ইউরোপের অভিবাসী সংকটের উদাসীনতার গল্প তাদেরই একজনের কন্ঠে প্রকাশিত করতে বাধ্য করেছেন। মাত্র কয়েকঘন্টার ব্যাবধানেই আঙ্কারায় বৈঠক করেন আরেক ভলকান দেশ আলবেনিয়ার প্রেসিডন্ট Bajram Begaj সাম্প্রতিক তুরস্কের রপ্তানি আয় ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। করনা মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এইসমস্ত প্রতিবন্ধকতা পাশকাটিয়ে IMF এর প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী সারা বিশ্বের প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান যেখানে নিচের দিকে সেখানে তুরস্ক উপরের দিকে যাচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন রেখেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গন মাতানো এরদোয়ান ঘরের মাঠে কেমন খেলছেন। যেহেতু নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে শিঘ্রই। এখানে সুস্থ গণতন্ত্র চর্চা হয়। এই দিক দিয়ে তুর্কিরা অন্যান্য জাতির চেয়ে সম্পুর্ণ আলাদা, আক্রমনাত্মক। প্রায় ২৫০ জন তুর্কি নাগরিকের মৃত্যু সেদিন সেনাবিদ্রোহ ঠেকিয়ে এরদোয়ানকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছিলো। তেমনি তুর্কিশদের সার্থ্যের বাহিরে যেয়ে কাজ করলে আবারও ২৫০ জনের মৃত্যু বিনিময় হলেও সরকার উৎক্ষাত করতে তুর্কিশদের ভ্রুক্ষেপ আসবে না। কোন দিকে যাচ্ছে তুরস্কের জাতীয় নির্বাচন ঠাওর করা বেশ দুরহ। সেদিন কায়সেরি শহরের এক জনসভায় প্রসিডেন্টে এরদোয়ান উপস্থিত হয়েছিলেন। জনগণের উপস্থিতি বিগত সকল বারের চেয়ে বেশি ছিলো, যা বিরোধীদের ব্যাপক ভাবিয়ে তোলেছে। রায়হানুর রহমান রিমন। ইস্তানবুল, তুরস্ক।

IMG_8225

তীব্র দাবদাহে পুড়েছ ইউরোপ, তুরস্ক।

আপনারা জানেন এবারের গ্রীষ্মকালের আবহাওয়া ইউরোপ জুড়েই তীব্র আঁকার ধারণ করেছে। পাল্লা দিয়ে তুরস্কেও ব্যাপক দাবদাহ শুরু হয়েছে। তুরস্কের কৃষ্ণ সাগরীয় এলাকা ভূমধ্য সাগরীয় এলাকা আপেক্ষিক শীতল। সেই সুবাদে ইস্তানবুলে তেমন উষ্ণ আবহাওয়া নেই। ভূমধ্য সাগরীয় অঞ্চলের প্রধান হাব আনতালীয়া এবছর প্রচন্ড উত্তাপে পুড়ছে। গত সাপ্তাহে সেখানে ভ্রমণে যেয়ে দেখা চিত্র। বেলকুনীতে সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়ে জঙ্গলের মাঝখানে বিশাল ধৌঁয়ার কুন্ডলী। সেদিনের আবহাওয়াছিলো অত্যন্ত উত্তপ্ত। ঘরে টিকতে না পেরেই বসেছিলাম বেলকোনিতে। সবাই মিলে ভিতিসহকারেই দেখছিলাম আমাদের চোখের সামনে আকাশ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যাওয়া। ২/১ মিনিটের মধ্যেই একের পর এক হেলিকাপ্টার চলে আসে। শুধু হেলিকাপ্টার নয় একটি ফায়ার ফাইটিং এয়ারক্রাফ্ট ও লক্ষ করেছি। উপর থেকে পানি দেওয়া শুরু করলে ১০/১৫ মিনিটের মধ্যেই নিভে আসে আগুন। এখানে তুর্কিশ ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতার প্রশংসা না করলেই নয়। পৃথিবীর অনেক দেশ রয়েছে যেখানে ফায়ারসার্ভিসের অসক্ষমতার কারণে সামান্য আগুনে অসংখ্য মানুষ মারা যায় প্রতিনিয়ত, সেখানে তুরস্কে আনতালীয়া প্রভিন্সেই চারটি হেলিকাপ্টার, একটি এয়ারক্রাফ্টকে দেখেছি কাজ চালিয়ে যেতে। দু-এক মিনিটেতো আর অন্য প্রোভিন্স থেকে হেলিকাপ্টার উড়ে আসেনি। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পরও দুই ঘন্টা যাবত উপর থেকে বৃষ্টির মতো পানি ফেলে পুরো এলাকা অন্ত্যত সামান্য শীতল করার চেষ্টা করে যায় তুর্কিশ ফায়ার সার্ভিস। যেনো আবার কোনো দিক থেকে দাবানল শুরু হয়ে না যায়। যা সত্যিই আমাকে অবাক করেছে। রায়হানুর রহমান রিমন ইস্তানবুল, তুরস্ক।

আনতালীয়া ভ্রমণ ব্লগ

আনতালীয়া, তুরস্ক তুরস্কের দক্ষিণ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের একটি প্রবেশদ্বার। সাগরের নীল জলরাশি, উঁচু-নিচু পাহাড়ে সবুজের সমারোহ, তুরস্কের বৃহতম সৈকত (বিচ), বড়ো বড়ো আকর্ষণীয় অবকাশ যাপন কেন্দ্র (রিসোর্ট) কোটি কোটি আভ্যন্তরীণ এবং বিদেশি ভ্রমণপিপাসূ পর্যটককে আকৃষ্ট করে আসছে যুগ যুগ ধরে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী এক বছরে ১৩.৬ মিলিয়ন বিদেশি পর্যটক এই আনতালীয়া ভ্রমণ করে গেছে। রায়হানুর রহমান রিমন। ইস্তানবুল, তুর্কিয়ে। এটি তুরস্কের পঞ্চম বৃহতম জনবহুল শহড়। স্থানীয় তু্র্কিশদের পাশাপাশি অনেক বিদেশীরাও এখানে স্থায়ী ভাবে বসবাস করে যাচ্ছে। পর্যটন স্থান, সপিংমল কিংবা রাস্তাঘাটে তাকালেই বিদেশী পর্যটকদের আনাগোনা সবসময়ই দেখা মেলে। এককথায় এখানকার বেশিরভাগ মানুষেরই প্রধান আয়ের উৎস পর্যটন কেন্দ্রিক। পর্যটকদের সংস্পর্শে স্থানিয় তুর্কিশরা তাদের স্থানীয় ভাষার পাশাপাশি প্রায় প্রত্যেকেই রাশিয়ান, ইংরেজী, স্পেনিশ ভাষা বলতে পারে। ইস্তানবুলে কিংবা অন্যান্য শহড়ে যেই চিত্র দুষ্কর। পাশাপাশি পাব্লিক ট্রান্সপোটের ড্রাইভার, সুপারসপেও ইংরেজি বোঝে দেখে অবাক হয়েছি। ইস্তানবুলে অনেকেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে এসে ভাষা সংক্রান্ত বিরম্বনায় হতাশ। কিন্তু আনতালীয়াতে অন্তত এ সমস্যাটা প্রকট নয় বিধায় অসংখ্য বিদেশি পরিবার এমনকি ইউরোপ আমেরিকা থেকে এসে এখানে সেকেন্ড হোম করে বসবাস করে আসছে। কিন্তু সকল স্থানেই সুবিধা অসুবিধা দুটোই থাকে। আনতালীয়ায় অসুবিধা হচ্ছে বছরের (দুই মাস) এ সময়টায় প্রচন্ড উষ্ণ আবহাওয়া। দুপুরে রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকে রোদের উত্তাপ সহ্য করে খুব বেশি মানুষজন বাহিরে বের হয় না। সমুদ্র যাদেরকে টানে, সৈকতের পাশাপাশি যারা বসবাস করতে চায় তাদের জন্য উত্তম আনতালীয়া। টুর গাইড করার সুবাদে আমি অনেক ব্রিটিশ পরিবারকে চিনি ঘুরতে এসে যারা আনতালীয়ায় থেকে গেছে। সৈকতের পাশাপাশি বসবাস করা অনেক সুবিধার, মানব দেহের অনেক অজানা রোগ নিমিষেই বিনা ঔষুধে দূর হয়ে যায়। বাংলা সিনেমায় যেমনটা দেখেছি নলকূপহীন নদীপারের মানুষ “ভাত বাড়, ডুব দিয়া আইতাসি” ঠিক এরকম সৈকতের আশেপাশের মানুষ সবাই দিনের অন্য সময় যে যাই করুক, যেখানেই থাকুক গোসলের সময় সবাই কাপড়- চোপর নিয়ে সৈকতে ছুটে যায়।এরকম মানুষও পেয়ে যেতে পারেন কাজ থেকে লাঞ্চ আওয়ারে বাসায় এসেছে তারাহুরা করে দুইটা ডুব আর খাওয়া-দাওয়া করে আবার কাজে ফিরে যায়। আমাদের এখানে পাব্লিক বীচগুলোতেও নলকূপ থাকে লবনাক্ত পানিতে ডুবিয়ে শেষে ভালো পানি নিয়ে গোসল করার জন্য। পাশাপাশি পাব্লিক টয়লেট এবং কাপর পাল্টানোর জন্য জায়গাও থাকে। এমনকি মহিলারা মেকাপ করার জন্য আয়নাও পেয়ে যেতে পারেন। রাশিয়ানদের পছন্দের অবকাশ যাপন কেন্দ্রের তালিকায় আনতালীয়া প্রথম। মস্কো, রাশিয়া থেকে সরাসরি কিংবা ইস্তানবুল সংযোগসহ দৈনিক ৭টি এয়ারলাইনস ৫০ টিরও বেশি বিমান পরিচালনা করছে। গুরুত্বপূর্ণ সকল স্থানগুলোতেই তুর্কি ভাষার পাশাপাশি রাশিয়ান ভাষা ব্যাবহার করা আছে। রাশিয়ানদের সাথে আনতালীয়ার সম্পর্ক এতটাই অবিচ্ছেদ্য যে অনেকে আনতালীয়ার মাধ্যমে তুরস্ককে চিনে থাকে। আনতালীয়া সিটি সেন্টার বেশ প্রাচীন। হ্যাড্রিয়ান গেট, রোমান সম্রাট হ্যাড্রিয়ানের সম্মানে নির্মিত, যিনি 130 সালে আনটালিয়া সফর করেছিলেন। হেলেনিস্টিক যুগের 150 খ্রিস্টাব্দের পারগামনের রাজা দ্বিতীয় অ্যাটালাসকে শহরের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে দেখা হয়। তার সম্মানে এর নামকরণ করা হয়েছিল আটালেয়া বা আটালিয়া। শহরটি অ্যাটালাসের শক্তিশালী নৌবহরের নৌঘাঁটি হিসেবে তৎকালীন কাজ করেছিল। বর্তমান তুরস্কে 2008 সালের এক খননকালে খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীর অবশেষ উন্মোচিত হয়, যা থেকে বোঝা যায় যে আনটালিয়া একটি অত্যন্ত প্রাচীন শহরের পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণ ছিল। খ্রীষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে খ্রীষ্টান ধর্মের ব্যাপক প্রসার ঘটেছিলো এখানে অতপর বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের প্রধান সমুদ্রবন্দর, সেলজুক সাম্রাজ্যের সময় ১৩ শতকে সেলজুক মসজীদ, অটোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্তিকরণ ইত্যাদি প্রত্যেক কালেরই ইতিহাসে অধ্যুষিত আন্তালীয়া নগরী। ঘুরে বেড়ানোর জন্য শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনা, বিচ এর বাহিরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য মূল শহরের অদূরে যেতে হবে। অনেকে না জানার কারণে মূল শহরেই ঘোরাঘোরি করেই ফিরে আসেন। আনতালীয়া পরিপূর্ণ উপভোগের জন্য আমাদের rayhantrade.com এ যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের রয়েছে নিরিবিলি ক্যাম্পিং পরিবেশ, সমুদ্রের তলদেশের স্কুবা ড্রাইভিং, জঙ্গলের জিভ সাফারী, ওয়াটার রাফটিং, নৌ ভ্রমণ, সিটি টুর, রিসোর্ট ইত্যাদির আকর্ষণীয় প্যাকেজ। ভ্রমন খাতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমধ্যসাগর এবং বন্দর নিকটবর্তি হওয়ায় মূল শহরের বেশ দূরেই অসংখ্য কল-কারখানা, পণ্যাগার গড়ে উঠেছে। সরকারী বেসরকারি অসংখ্য ইউনিভার্সিটি, গুরুত্বপূর্ণ অনেক দেশের কনসুলেট সেবা, হাসপাতাল, সপিংমল কোনো কিছুরই কমতি নেই এখানে। ভ্রমণ সংক্রান্ত সব ধরণের ব্যবসায়ই এখানে চাঙ্গা। পাশাপাশি বিদেশি ভ্রমণকারীদের সংস্পর্শে অনেক সূযোগ থাকে যাতে করে সহজেই, কম সময়ে কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব। তুর্কির ভাইরাল আইসক্রিম ডান্সের কথা অনেকেই শুনে থাকবেন, শুধুমাত্র আনতালীয়া থাকার কারণেই আজ তার এতোদূর চলে আসা। স্থানীয়দের পাশাপাশি অসংখ্য বিদেশি ইনভেস্টম্যান্ট লক্ষ্য করেছি এখানে। অসংখ্য হোটেল, রেস্টুরেন্ট, রেন্টেকার এবং প্রমোদ তরী দেখেছি আমাদের পাশ্ববর্তী ভারতীয় মালিকানাধীন। যেখানে আমার দেখা ভারতীয়রা সবচেয়ে কম সংখ্যক তুরস্ক ভ্রমণে আসে। আনতালীয়ার রাস্তাঘাট বেশ পরিচ্ছন্ন। সবমিলিয়ে ভালো একটি সময় অপেক্ষা করছে যারা তুরস্ক ভ্রমণে আনতালীয়া অন্তর্ভুক্ত করেছেন।